দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লালমনিরহাটে সমবায় সমিতির আড়ালে অবৈধ ঋণদান, চড়া সুদে কিস্তি আদায় ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের করা মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) লালমনিরহাটকে দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত।
এদিকে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনের অপব্যবহারের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লালমনিরহাটে কর্মরত সাংবাদিকেরা।
জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল দৈনিক কালবেলায় ‘গ্রাহকের ১২ কোটি টাকা নিয়ে উধাও দুই সমিতি’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে তিস্তা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি ও তিস্তা ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী এম এ হাশেম ওরফে বাবুলের বিরুদ্ধে সাধারণ গ্রাহকদের আমানতের অর্থ আটকে রাখা, ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সুদে টাকা লেনদেন এবং সঞ্চয়ের বিপরীতে নিম্নমানের পণ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। একই বিষয়ে আরও কয়েকটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিস্তা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সভাপতি এবং বর্তমানে নাম পরিবর্তন করে তিস্তা সমবায় বাজারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ হাশেম রংপুর সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। মামলায় দৈনিক কালবেলার লালমনিরহাট প্রতিনিধি শেখ খায়রুজ্জামান শাহেদ ও নয়া দিগন্ত ডিজিটালের প্রতিনিধি মো. জুবাইর আহমেদ খানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিআইডি লালমনিরহাটকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
মামলার বিষয়ে দৈনিক কালবেলার লালমনিরহাট প্রতিনিধি শেখ খায়রুজ্জামান শাহেদ বলেন, সমবায় সমিতির নামে সাধারণ মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা তুলে ধরতেই সংবাদটি করা হয়েছিল। সরেজমিনে গ্রাহকদের ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তার বিষয়ও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর কণ্ঠরোধ ও অনিয়ম আড়াল করতেই মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রেসক্লাব লালমনিরহাটের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন স্বপন বলেন, বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের পর তা খণ্ডন না করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি আদালতে মামলা করা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত। তিনি মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সাংবাদিক নেতা শরিফুল ইসলাম রতন বলেন, অনিয়মের অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিরা নিজেদের কর্মকাণ্ড আড়ালের চেষ্টা করছেন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা মামলাটি প্রতিশোধমূলক বলে দাবি করে তিনি বলেন, সিআইডির নিরপেক্ষ তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। হয়রানি বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ হাশেম ওরফে বাবুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি সিআইডি লালমনিরহাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, সমবায় কর্মকর্তাদের নজর এড়িয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাঁরা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
এমএস/